দুপুর ১:২২ । ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ । ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ । ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি


জরুরী নোটিশ/বিজ্ঞপ্তিঃ
* সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে ভিজিট করুন www.nilakashbarta.com – নীলাকাশ বার্তা ডট কম। ধন্যবাদ। জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোটাল www.nilakashbarta.com – নীলাকাশ বার্তা ডট কম পত্রিকায় জেলা/উপজেলা ভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন। অফিস : সুন্দরবন টাওয়ার (২য় তলা), নূরনগর বাজার, নূরনগর-৯৪৫১, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, ঢাকা, বাংলাদেশ। মোবাঃ +৮৮০১৮৮৫-১৭৫৬৮০, +৮৮০১৯৫৬-৬৯৫৯৮১, ই-মেইল : nilakashbarta@gmail.com, nuruzzamannews@gmail.com, ফেসবুক : www.facebook.com/nilakashbarta * To get the latest news, visit www.nilakashbarta.com first. Thanks. District/Upazila based representatives will be appointed in the popular online news portal www.nilakashbarta.com of Bangladesh on an urgent basis. Those interested should contact. Office: Sundarbans Tower (2nd Floor), Nurnagar Bazar, Nurnagar-9451, Shyamnagar, Satkhira, Dhaka, Bangladesh. Mob: +8801885-175680, + 801958-695971, E-mail: nilakashbarta@gmail.com, nuruzzamannews@gmail.com, Facebook: www.facebook.com/nilakashbarta
শিরোনাম
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক সামিউল মন্টি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নীলাকাশ বার্তা এর খুলনা বিভাগীয় প্রধান জে এম নুর ইসলাম নুরনগর ইউনিয়ন বাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান এম বখতিয়ার আহমেদ শ্যামনগর বাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক আলমগীর হায়দার সুখ,শান্তি,সমৃদ্ধি কামনা করে নীলাকাশ গ্রুপের চেয়ারম্যানের ঈদের শুভেচ্ছা ‘অনলাইন ঈদগাঁও’র উদ্যোগে ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ নুরনগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউনিয়ন আ”লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ ইসরায়েলে বড় হামলা হামাসের, পাঁচ মিনিটেই ১৩৭টি রকেট নিক্ষেপ ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রিডা প্রাইভেট হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক আল মামুন

ডাক্তার- পুলিশ বাকবিতণ্ডা পাল্টাপাল্টি বিবৃতি

Spread the love

নীলাকাশ বার্তাঃ রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাক-বিতণ্ডার ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য দিকে ডাক্তারের অসৌজন্য মূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন সার্ভিস।

ডক্টরস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. শাহ মোঃ জাকির হোসেন সুমন স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ১৮ই এপ্রিল ২০২১ এ রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইদা শওকত জেনীর ব্যবহৃত গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো, স্টিকার এবং বিশেষ অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তা অন্যায়ভাবে আটকানো হয়।

তিনি নিজের পরিচয় দেয়ার পরেও বাগবিতণ্ডায় জড়ানো হয়। এছাড়াও তাকে উত্তেজিত করার উদ্দেশ্যে ‘ভুয়া চিকিৎসক’ এবং ন্যক্কারজনকভাবে ‘পাপিয়া’ নামে অভিহিত করা হয়। পরবর্তীতে সেই বাকবিতণ্ডার দৃশ্য খণ্ডাকারে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইলেট্রনিক মিডিয়াতে ছড়ানো হয়। এতে সারা দেশের চিকিৎসক সমাজের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) উক্ত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এতে আরো বলা হয়, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনাকালীন সময়ে ফ্রন্টলাইনার হিসাবে চিকিৎসকদের মনোবল ধরে রাখা আবশ্যক বলে আমরা মনে করি।

এমতাবস্থায় উক্ত ভিডিও খণ্ডাকারে কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে ভাইরাল করেছে, সেটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। উপরন্তু লকডাউন চলাকালীন সময়ে চিকিৎসকবৃন্দ যাতে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা একান্ত কাম্য। উক্ত ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে লকডাউনের সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে যেতে হেনস্তার সঙ্গে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনার দবি জানায় বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ডা. মোছা. সাঈদা শওকত দায়িত্ব পালন শেষে অত্র প্রতিষ্ঠানের লোগো সম্বলিত গাড়িতে আরোহিত অবস্থায় এলিফ্যান্ট রোডে পৌঁছার পর কর্তব্যরত পুলিশের টহলদল কর্তৃক তাকে থামানো হয়। পরিচয় চাওয়া হলে তিনি নিজেকে চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার পরিচয় জানান। পক্ষান্তরে, উক্ত টহলদল তার চিকিৎসক পরিচিতিকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করে।

অসৌজন্য মূলক ভাবে তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। এ সময় তিনি তার নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত অ্যাপ্রোন পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। উল্লেখ্য, অ্যাপ্রোন বিশ্বব্যাপী চিকিৎসকগণের পরিধেয় পেশাগত পোশাক হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে, দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের আচরণে এবং তার পরিচিতি ভুয়া হিসাবে অভিহিত করার প্রেক্ষিতে ডা. মোছা. সাঈদা শওকত বিক্ষুব্ধ হন এবং পুলিশের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হন, যার খণ্ডকালীন সচিত্র প্রতিবেদন সামাজিক মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে।

বিষয়টি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, এ ঘটনা দেশব্যাপী চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করার শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসককে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীগণের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, চিকিৎসকের অসৌজন্যমূলক আচরণের কথা উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন। এসোসিয়েশনের সভাপতি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, পুলিশের উপস্থিতিতে একজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনৈক চিকিৎসককে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একজন পেশাদার ও সচেতন নাগরিকের কাছ থেকে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি শুধু এই পুলিশ সদস্যদেরই অপমান করেননি, গোটা পুলিশ বাহিনীকেই কটাক্ষ ও হেয় প্রতিপন্ন করেছেন যা মিডিয়া চিত্রে প্রতীয়মান। শুধু তাই নয় তিনি নিজ পেশার পরিচয় বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক পরিচয় তুলে ধরে পুলিশ ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং জাতির সামনে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছেন। উক্ত চিকিৎসক বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাদানুবাদকালে যে শব্দ প্রয়োগ করেছেন তা অত্যন্ত অরুচিকর ও লজ্জাজনক। তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ‘তুই’ বলে সম্মোধন করেছেন এবং আর ‘আমি কি সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা’ বলে হুমকি দিয়েছেন।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসক কর্তৃক অপেশাদার অরুচিকর আচরণে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি পুলিশ অত্যন্ত মর্মাহত। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশ লঙ্ঘন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন।

সূত্র মানব জমিন

আরও পড়ুন

যখন রিকশা জব্দ করা হয়, চার চাকার গাড়িই দেখেন এখনও যাচ্ছে

নীলাকাশ বার্তাঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ মোড়। রোববার দুপুর ১টা। যাত্রীবিহীন খালি রিকশা চালিয়ে যাচ্ছেন আজিজুল হক। ট্রাফিক পুলিশের এক কনস্টেবল দৌড়ে আটকালেন তার রিকশা। মুহূর্তেই রিকশার পেছনের সিট তুলে রেখে দিলেন ট্রাফিক বপে আর রিকশাটি উল্টে রাখলেন রাস্তার পাশে। তার অপরাধ, কঠোর লকডাউনে রিকশা চালিয়ে আইন ভঙ্গ করেছেন।
প্রায় এক ঘণ্টার আকুতিতেও মিলল না রিকশা। নিরুপায়, বিমর্ষ আজিজুল হক বসে পড়লেন ফুটপাতে। ধুলোমাখা মুখ। চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। গরমে ঘাম ঝরছে, শরীরজুড়ে ক্লান্তি। ফুটপাতে বসেই কথা হচ্ছিল ষাটোর্ধ্ব আজিজুল হকের সঙ্গে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বললেন, ‘আইন শুধু গরিবের জন্য কড়া। যখন রিকশা জব্দ করা হয়, তখন অনেক চার চাকার গাড়িই সামনে দিয়ে চলে গেছে। দেখেন, এখনও যাচ্ছে। কিন্তু তাদের গাড়ি আটকানো হয় না। গরিব বলে সব দোষ আমাদের।

দুপুর ২টায় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। একটি রিকশা উল্টে রেখেছে পুলিশ। আর এক ট্রাফিক কনস্টেবলের পেছন পেছন ঘুরছেন রিকশাচালক। একপর্যায়ে কান্না শুরু করেন নুর হোসেন। ৫০ বছর বয়সী এই রিকশাচালকের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন ১০ বছর ধরে। স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে রায়েরবাগে একটি ছোট ঘর ভাড়া করে থাকেন।

নুর হোসেন বলেন, ‘রিকশা চালিয়েই ছয়টি পেট চলে। অভাব হলেও তিনবেলা খাবার জুটে যেত। কিন্তু টানা লকডাউনে সব থমকে গেছে। গত কয়েক দিন ঘরেই ছিলাম। কিন্তু পেট আর মানছে না। ক্ষুধার কষ্টে ছেলেমেয়ে কাঁদছে। ওদের কান্না দেখে ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। সকালে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ি। সকাল থেকে ১৫০ টাকা আয় হয়েছে। কিন্তু এখন পুলিশের হাতে ধরা খেতে হলো।’ রিকশা হারিয়ে চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন নুর হোসেন।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক ফার্মগেট এখন একেবারেই অচেনা। অন্য সময় মানুষ আর যানবাহনে ঠাসা থাকে এই এলাকা। লকডাউনের কারণে এখন ফাঁকা।

ব্যক্তিগত গাড়ি আর রিকশা দেখা যায় মাঝেমধ্যে।
ফার্মগেটে পুলিশের চেকপোস্টে রোববার বিকেল ৩টায় দেখা গেল, কয়েকটি রিকশা উল্টো করে রাখা। রিকশাচালকদের মিনতিতেও মন গলছে না পুলিশের।

এখানে কথা হয় রিকশাচালক কামাল উদ্দিনের সঙ্গে। শেরপুর থেকে আসা কামাল উদ্দিন স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন তেজগাঁওয়ের একটি বস্তিতে। রিকশার মালিককে খরচ দিয়ে লকডাউনের আগে চার-পাঁচশ টাকা দৈনিক আয় হতো। আর সংসার সচল রাখতে তার স্ত্রীও দুটি বাসায় কাজ করেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে স্ত্রীও এখন বেকার। দু’জনেরই রোজগার এখন শূন্য। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে চারজনের সংসার চালাতে খুব অসুবিধা হচ্ছে।

পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই গত শনিবার থেকে রাস্তায় নেমেছেন। প্রথম দিন ২০০ টাকা আয় করেছেন।

কিন্তু রোববার ফার্মগেটে আসার পরপরই পুলিশ রিকশা আটক করেছে কামালের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এখন উপরওয়ালার দিকেই তাকিয়ে আছি, রিকশাটি যদি একবার ছাড়াতে পারি!

এখানে দায়িত্বরত পুলিশের এক এএসআই বলেন, করোনা মোকাবিলায় বন্ধ রাখা হয়েছে সব রকম গণপরিবহন ব্যবস্থা। রিকশাও এর মধ্যে পড়েছে। তাই এদের রিকশা জব্দ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অনুমতি দিলে রিকশা ছেড়ে দেওয়া হবে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি রিকশা গ্যারেজে গিয়ে দেখা গেল, বেশিরভাগ রিকশা অলস পড়ে আছে। লকডাউনের কারণে গ্রামে বা পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি অনেকে। উপার্জন একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেট চালানো মুশকিল হয়ে উঠেছে। সরকারি খাদ্য সহায়তাও জোটেনি। খলিল উল্যাহ নামের এক রিকশাচালক বলেন, করোনা ও পুলিশের ভয় উপেক্ষা করে দু’দিন রাস্তায় বের হয়েছি। দু’দিনে মাত্র ১৮০ টাকা আয় করেছেন। রাস্তায় মানুষ নেই। সারাদিন ঘুরেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।

তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার মাথায় রিকশাচালক আবদুর রাজ্জাক বসে আছেন এক ঘণ্টা ধরে। একজন যাত্রীও পাননি তিনি। বলেন, ‘লকডাউন আমাগো পেটে লাথি মারছে। সারাদিনে রোজগার কী হইব, বুইঝা গেছি। খামু কী, কন?

পুরো ঢাকা শহরেই এখন এই চিত্র। রিকশাচালকদের অনেকেরই প্রশ্ন, এভাবে আর কত দিন চলবে? করোনায় আক্রান্ত না হলেও হয়তো অনাহারে মরতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য না মিললে তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো মুশকিল হবে।
রিকশা ভাড়া দেওয়া যাদের পেশা, তারাও পড়েছেন বিপাকে। রিকশাচালকদের কাছে ‘মহাজন’ হিসেবে পরিচিত এদের আয়ও প্রতিদিন শূন্যের দিকে নামছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বা বিলস ২০১৯ সালে এক গবেষণায় জানায়, ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ১১ লাখের মতো। দিনে একটি রিকশা দুই শিফটে চলে। রিকশাচালকের সংখ্যা সে হিসাবে আনুমানিক ২২ লাখের মতো। ঢাকার এসব রিকশার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ২৭ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে বলে গবেষণায় জানা যায়। এই বিশাল সাধারণ জনগোষ্ঠীকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও বিলসের উপদেষ্টা নাঈমুল আহসান জুয়েল।

সূত্র সমকাল

 

আরও পড়ুন

রিকশা উল্টো করে রাখার দৃশ্য

লকডাউন: ‘বিধিনিষেধ’ এক সপ্তাহ বেড়েছে

নীলাকাশ বার্তাঃ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় চলমান সর্বাত্মক লকডাউন বা ‘বিধিনিষেধ’ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে সচিবদের এক বৈঠকে।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেছেন, তারা আরো দুই সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সকালে সচিবদের বৈঠকে এক সপ্তাহ বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হতে পারে। তবে ঈদের আগে শিথিল করার চিন্তা আছে।

এর আগে, রবিবার রাতে এক বৈঠক করে চলমান লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

এতে বলা হয়, সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে লকডাউন শেষ করার পূর্ব পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক ভাবে দুই সপ্তাহের কম লকডাউন দিয়ে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায় না বলেও পরামর্শক কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়।

গত চৌদ্দই এপ্রিল শুরু হওয়া এক সপ্তাহের লকডাউন শেষ হবার কথা ছিল একুশে এপ্রিল মধ্যরাতে।

আরও পড়ুন

ডাক্তার বড় না পুলিশ বড়, আমি দেখাবো

 

নীলাকাশ বার্তাঃ করোনার বিস্তার রোধে চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ রোববার দুপুরে রাজধানীর এলিফেন্ট রোডে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন এক নারী চিকিৎসক।

বাকবিতণ্ডার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই নারী নিজেকে শওকত আলী বীর বিক্রমের মেয়ে সাইদা শওকত বলে পরিচয় দেন।

‘ডাক্তার বড় না পুলিশ বড়’- সেই প্রশ্ন তুলে তা দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন ওই নারী চিকিৎসক। রোববার দুপুরে রাজধানীর এলিফেন্ট রোডে পুলিশ চেকপোস্টে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে উঠেন ওই নারী। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক পরিচয় ও দেন।

কিন্তু পুলিশ বারবার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলেও তিনি তা দেখাননি।

৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে উদ্দেশ করে ওই নারী বলেন, “করোনায় জীবন গেছে কয়জন ডাক্তারের, আর আপনারা কত জন মরছেন। আমার কাছে আবার চান মুভমেন্ট পাস।’

এরপরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে বলেন, “আপনি আমাদের ধমক দিচ্ছেন কেনো?’ জবাবে নারী বলেন, “আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর মেয়ে।’ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমিও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। আপনি আমাকে শোনাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার কথা।”

এসময় উত্তেজিত হয়ে ওই নারী পুলিশকে বলেন, “ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আমি বিএসএমএমইউ প্রফেসর, বীর বিক্রমের মেয়ে। আমাকে আপনারা হয়রানি করতে পারেন না।” পরে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, “আপা আপনাকে তো হয়রানি করা হচ্ছে না। আপনার কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে।”

এরপরে নিজ গাড়িতে ওঠে যান ওই নারী চিকিৎসক। তখন পুলিশের এক সদস্য ওই নারীকে বলেন, “আপনি আমাকে তুই করে বলছেন কেন?” এক পর্যায়ে আন্দোলনের হুমকি দেন ওই নারী। পুলিশ কর্মকর্তা জবাবে বলেন, “আমাদের আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন?”

“আর আমি কে, সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা” এই কথা বলে এক “মন্ত্রীকে” ফোন করেন তিনি। ফোনে তাকে হয়রানি করার কথা বলেই পুলিশ সদস্যের হাতে তার ফোন তুলে দেন কথা বলার জন্য।

ভাইরাল ভিডিওতে ওই নারীকে তার পরিচয়পত্র দেখাতে দেখা যায়নি।

 

আরও পড়ুন

মেয়ের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা করলো মা

নীলাকাশ বার্তাঃ বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে নিজ মেয়ের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির বাবুলের স্ত্রী হেনা কবির। অপর দিকে, বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মেয়ে সাদিয়া সুলতানা বিথি।

রবিবার দুপুরে শরণখোলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে সাদিয়া সুলতানা বিথি জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পরে তারা দুই বোন তানিয়া আক্তার সাথী ও তিনি হেবা দলিল অনুযায়ী পাঁচরাস্তার মোড়ে বাবুল সুপার মার্কেটের দোকান ভাড়া দিয়ে ভোগ দখল করে আসছেন। “কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও তার বোন জামাই মঞ্জুরুল ইসলাম মার্কেটটি একক ভাবে দখল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালান।”

এ কারণে তিনি একটি মামলা করলে আদালত মার্কেটের উভয় পক্ষকে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
কিন্তু আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে স্বার্থান্বেষীদের ইন্ধনে ১৩ এপ্রিল তার দুই ভাড়াটিয়ার দোকানে হামলা ও লুটপাট চালায় সন্ত্রাসীরা”। এ ব্যপারে তার ভাড়াটিয়া ওই সন্ত্রসীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। “এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি করে আমার মা হেনা কবিরকে দিয়ে আমিসহ ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।”

বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে স্বার্থান্বেষী মহলটি হামলা, মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্রে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলেও জানান।”

এ বিষয়ে সাদিয়া সুলতানার মা হেনা কবির বলেছেন, তার বড় জামাইয়ের টাকা দিয়ে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। তাই ওই মার্কেট বড় মেয়ে সাথীকে দিয়ে ছোট মেয়ে বিথিকে অন্য জায়গার জমি দিলেও সে রাজি না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *