দুপুর ১:১৪ । ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ । ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ । ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি


জরুরী নোটিশ/বিজ্ঞপ্তিঃ
* সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে ভিজিট করুন www.nilakashbarta.com – নীলাকাশ বার্তা ডট কম। ধন্যবাদ। জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোটাল www.nilakashbarta.com – নীলাকাশ বার্তা ডট কম পত্রিকায় জেলা/উপজেলা ভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন। অফিস : সুন্দরবন টাওয়ার (২য় তলা), নূরনগর বাজার, নূরনগর-৯৪৫১, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, ঢাকা, বাংলাদেশ। মোবাঃ +৮৮০১৮৮৫-১৭৫৬৮০, +৮৮০১৯৫৬-৬৯৫৯৮১, ই-মেইল : nilakashbarta@gmail.com, nuruzzamannews@gmail.com, ফেসবুক : www.facebook.com/nilakashbarta * To get the latest news, visit www.nilakashbarta.com first. Thanks. District/Upazila based representatives will be appointed in the popular online news portal www.nilakashbarta.com of Bangladesh on an urgent basis. Those interested should contact. Office: Sundarbans Tower (2nd Floor), Nurnagar Bazar, Nurnagar-9451, Shyamnagar, Satkhira, Dhaka, Bangladesh. Mob: +8801885-175680, + 801958-695971, E-mail: nilakashbarta@gmail.com, nuruzzamannews@gmail.com, Facebook: www.facebook.com/nilakashbarta
শিরোনাম
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক সামিউল মন্টি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নীলাকাশ বার্তা এর খুলনা বিভাগীয় প্রধান জে এম নুর ইসলাম নুরনগর ইউনিয়ন বাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান এম বখতিয়ার আহমেদ শ্যামনগর বাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক আলমগীর হায়দার সুখ,শান্তি,সমৃদ্ধি কামনা করে নীলাকাশ গ্রুপের চেয়ারম্যানের ঈদের শুভেচ্ছা ‘অনলাইন ঈদগাঁও’র উদ্যোগে ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ নুরনগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউনিয়ন আ”লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ ইসরায়েলে বড় হামলা হামাসের, পাঁচ মিনিটেই ১৩৭টি রকেট নিক্ষেপ ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রিডা প্রাইভেট হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক আল মামুন

আলোচিত সেই বাবার মেয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডিসি

Spread the love

মাহবুব রহমান, দৈনিক যুগান্তর, রংপুর ব্যুরোঃ অদম্য পিতা তারেক ইসলাম (৩৪)। অসুস্থ ৭ মাস বয়সী শিশুসন্তানের জীবন বাঁচাতে ঠাকুরগাঁও থেকে ১১০ কিলোমিটার পথ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে ৯ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে এসেছেন।

অভাবি রিকশা চালক পিতার আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় তিনি করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউন চলায় অ্যাম্বুলেন্স খরচ জোগাতে পারেননি। তাই তার এই দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হয়েছে নিজের জীবিকার বাহন রিকশা চালিয়ে। এই পথ পাড়ি দেয়ার মানবিক গল্প হার মানিয়েছে সমস্ত মানবিকতাকে।

সেই শিশু জান্নাতের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ের জন্য হাত বাড়িয়েছেন রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।

রোববার দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা অসুস্থ শিশুটিকে দেখতে যান। এ সময় তিনি জানান, জেলা প্রশাসক মোঃ আসিব আহসান শিশুটির চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহন করবেন। এ সময় তিনি শিশুটির মায়ের হাতে পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন।

মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিয়মিত শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সব সহযোগিতা করা হবে।

রোববার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে কথা হয় তারেক ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, শনিবার সকাল ৬টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ১১০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে বেলা সোয়া ৩টায় তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান।

অদম্য পিতা বলেছেন,, তার সাত মাস বয়সী শিশু জান্নাতের পেটের নাড়ি উল্টে যাওয়াতে গত ১৩ এপ্রিল রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঠাকুঁরগাও সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসক একদিন দেখার পর জান্নাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার্ড করেন। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার টাকা না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। চারদিন ধরে কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে অবশেষে নিজে রিকশা চালিয়ে সন্তানকে নিয়ে রংপুরে আসেন তিনি।

তিনি বলেন, এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসতে রংপুরের তারাগঞ্জের দিকে এসে রিকশার চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে এক অটোচালক আমার সন্তানের চিকিৎসার কথা শুনে আমাকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ এগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু গন্তব্য পৌঁছার জন্য বাধ্য হয়ে ২-৩ কিলোমিটার রাস্তা রিকশাটা ঠেলে নিয়ে আসি। পথিমধ্যে আরেকটা গাড়ি আমাকে মেডিকেল পৌঁছানোর জন্য সহযোগিতা করেন। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসে পৌঁছেছি।

শিশুটির পর্যবেক্ষণ শেষে অপারেশন করা লাগতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কিন্তু অপারেশন করার মতো টাকা তার কাছে নেই। এমনকি চিকিৎসকের লিখে দেওয়া প্রাথমিক পর্যায়ের ওষুধ, স্যালাইন, ইঞ্জেকশন কেনার জন্য কোনো টাকাও নেই তার কাছে।

আরও পড়ুন

ডাক্তার ও পুলিশের বাকবিতণ্ডা নিয় সর্বশেষ যা যানা গেলো

আফরোজা নীলাঃ বিবিসি বাংলা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢাকার রাস্তায় ধারণ করা একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে । যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে এক ডাক্তারের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা।

ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায় ওই ডাক্তার কিছুটা ক্ষিপ্ত মেজাজেই পুলিশ আর ম্যাজিস্ট্রেটকে বলছেন – “আমি আইডি কার্ড নিয়ে আসি নাই”।

পুলিশ যখন জানতে চাইল “আপনার মুভমেন্ট পাস আছে?”

ওই ডাক্তার গাড়ির স্টিকার দেখিয়ে বললেন “এই যে মুভমেন্ট পাস”।

তখন সাদা শার্ট পরিহিত ব্যক্তি যিনি ম্যাজিস্ট্রেট বলে জানা যাচ্ছে তিনি বলেন, আমিতো ওটা দেখতে চাচ্ছি না। আপনার মুভমেন্ট পাস আছে কিনা। আপনার আইডি কই?

তখন ওই ডাক্তার জবাব দেন, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস? কতজন ডাক্তারের প্রাণ গেছে করোনায়?

এক পর্যায়ে ওই ডাক্তার নিজের পরিচয় প্রকাশ করে বলেন, তিনি বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে সাঈদা শওকত। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে তিনি পুলিশ এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেডকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করলে তারাও ক্ষিপ্ত হন।

সাঈদা শওকত উত্তেজিত ভাবে বলতে থাকেন ‘ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে’।

‘আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা বলে তুইও পুলিশ’ এমন মন্তব্য আসলে পুলিশের পক্ষ থেকেও একজন বলে ওঠেন তার বাবাও মুক্তিযোদ্ধা।

‘ডাক্তার বড় না পুলিশ বড়’- সেই প্রশ্ন তুলে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি ।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি ধারণ করেছেন ফটো সাংবাদিক জীবন আহমেদ। বিবিসি বাংলা কে ঘটনাটির বিস্তারিত জানিয়েছেন।

এলিফ্যান্ট রোড এলাকার ঘটনা এটি। জীবন আহমেদের গাড়িও রাস্তায় চেক করে পুলিশ।

পুলিশের চেকিং শেষ হবার পর সেখানেই ছবি তুলছিলেন আহমেদ।

ওই চেকপোস্টেই ডা: সাঈদা শওকতের প্রাইভেট কারটি আটকায় পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট, তার মুভমেন্ট পাস বা আইডি কার্ড দেখতে চান তারা।

তিনি ডাক্তার কীনা, তা জানতে আইডি কার্ড দেখতে চান তারা।

তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পুলিশ বলছিল, আমিতো আইডি কার্ড দেখতে চাচ্ছি, আমিতো অপরাধ করছি না। আপনি খারাপ ব্যবহার করছেন কেন?এখানেতো অনেকেই অনেক পরিচয় দিয়ে বের হচ্ছে। এজন্যতো আপনি এরকম ব্যবহার করতে পারেন না।

জীবন আহমেদের তথ্য অনুযায়ী সেখানে নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন।

এক পর্যায়ে ওই ডাক্তার একজন মন্ত্রীকেও কল করার চেষ্টা করেন।

জীবন আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ডাক্তার যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনেকের ঘনিষ্ঠ সেরকম একটি ব্যাপার দেখানোর চেষ্টা ছিল এটি।

ডাক্তার আর পুলিশের এমন আচরণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন উঠেছে।

অনেকে দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে ডাক্তারের এমন ব্যবহার করা কতটা সমীচীন সেই প্রশ্নও অনেকে তুলছেন। বিশেষ করে ডাক্তারের একটি মন্তব্য- “তুই মেডিকেলে চান্স পাস নাই, তাই তুই পুলিশ। আমি চান্স পাইছি তাই আমি ডাক্তার, এটি অনেকেই শেয়ার দিচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা নিউ মার্কেট থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি। পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, চলাচলে বিধিনিষেধের এই সময়ে পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহন পরীক্ষা বা পরিচয়পত্র যাচাই করা, এটা কিন্তু তাদের নিয়মিত কাজের অংশ। চিকিৎসকসহ জরুরি সেবায় যারা নিয়োজিত, তাদের কিন্তু মুভমেন্ট পাসের কোন দরকার নেই, তাদের আইডি কার্ডই যথেষ্ট।

এলিফ্যান্ট রোডের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”সেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই কার্ড দেখতে চেয়েছিলেন, পুলিশ সহায়তা করছিল। এটা আমাদের নিয়মিত কাজেরই অংশ। তারপরে পুরো বিষয়টি তো আপনারা দেখতে পেয়েছেন।’

তিনি বলেন,’ অনেক সময় বিভিন্ন জরুরি সেবার নামে অপব্যবহারের ঘটনা ঘটতেও দেখা গেছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে রোগী নেই, কিছু নেই, মানুষ যাতায়াত করছে। এরকমও দেখা গেছে।

তিনি জানান, পরবর্তীতে তার চিকিৎসক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় তাকে যেতে দেয়া হয়েছে।

অন্য দিকে ডাক্তার সাঈদা শওকতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। এ বিষয়ে পরে যেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় – এমনটাই বলা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

তবে ঘটনার পরপর ফেসবুকে ডাক্তারদের গ্রুপ ‘বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনে’ নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন ডা: সাঈদা।

সেখানে তিনি লিখেছেন, তার গাড়িতে বিএসএমইউ-র পারমিশনের কাগজ, তার গায়ে প্রতিষ্ঠানের নাম সহ এ্যাপ্রন থাকার পরও পুলিশ ঝামেলা করেছে। তিনি একে ‘ডাক্তার জাতিকে’ অপমানের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি লিখেছেন, পুলিশ তাকে থানায় নেয়ার হুমকি পর্যন্ত দেয়। তিনিও তাই পুলিশকে কথা শোনাতে ছাড়েন নাই।

এই পোস্ট শেয়ার করে ডা: সাঈদাকে স্যালুট জানিয়ে তার পক্ষ নিয়েছেন অনেক ডাক্তার।

আরও পড়ুন

গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক এখন পথের পাগল!

নীলাকাশ বার্তাঃ জন্মে ছিলেন অভিজাত পরিবারে। কৈশোর ও যৌবনে ছিলেন দুর্দান্ত মেধাবী ছাত্র। কর্ম জীবনে পেয়েছিলেন ‘অংকের যাদুকর’ খেতাব। কঠিন ও জটিল অংকের সহজ সমাধান দিতেন। ঢাকায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতাও করেছেন প্রচুর সুনামের সাথে। নিজ এলাকায় গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের পন্ডিত শিক্ষক হিসেবে সমধিক পরিচিতি ছিল তার।

বীজগণিতের উৎপাদক বিশ্লেষণের ফর্মুলা আবিষ্কার করে হৈ চৈ ফেলে দেয়া সেই আব্দুল গাফফারের এখন দিন কাটে পথে পথে। বয়স সত্তরের কাছাকাছি।

গায়ে দুর্গন্ধময় ময়লা কাপড়। মাথা ভর্তি এলোমেলো চুল। আপন মনে হেঁটে চলেন পথে পথে। এমন এক জন মেধাবী শিক্ষকের করুণ পরিণতি ও জীর্ণদশা দেখে পরিচিতজনরা হতবাক হলেও তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব কেউ নেন না। অথচ তার নিপুণ মেধায় গড়া কত ছাত্র আজ প্রশাসনের উচ্চ পদে কর্মরত আছেন। ময়লাযুক্ত ছেঁড়া জামা কাপড় ও পাগল বেশি আব্দুল গাফ্ফার কোন দিন খেয়ে আবার কোন দিন না খেয়ে বছরের পর বছর ঘুরছেন।

মসজিদ, স্কুলঘর, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দা এখন এই জন প্রিয় শিক্ষকের বসবাসের জায়গা। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, মেধাবী শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খামারাইল গ্রামের কাজী আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। এলাকায় তাদের পরিবার অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত হিসেবে পরিচিত। আব্দুল গাফ্ফারের মেজ ভাই কাজী আব্দুল গনি নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসর নিয়েছেন। ছোট ভাই কাজী আব্দুল কাদের ঢাকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। তবে তাদের কোন ভাইয়ের সংসার জীবন বা সন্তানাদি নেই। গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১০ বছর বয়সে পিতৃহারা হন আব্দুল গাফ্ফার। পিতৃহীন তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে হতাশায় পড়েন সদ্য বিধবা মা কাজী বদরুন্নেছা। তাই সন্তানদের নিয়ে বদরুন্নেছা চলে আসেন মহেশপুর পৌর এলাকার জলিলপুর মোল্লা পাড়ার পিতার বাড়িতে। নানা নুরুদ্দীন আহম্মেদের বাড়িতে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন আব্দুল গাফ্ফার। বেড়ে ওঠেন তুখোড় মেধাবী ছাত্র হিসেবে।

এলাকায় তার মেধার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ে। মা বদরুন্নেছার দ্বিতীয় বিয়ে হয় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি ও তৃতীয় বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ছাউলিয়া গ্রামে। মা বদরুন্নেছার সন্তানদের অনেকেই এখনো মহেশপুরের জলিলপুরের নানা বাড়িতে বসবাস করেন। এদিকে আব্দুল গাফ্ফার জগন্নাথ কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএসসি ও এমএসসি পাশ করে ঢাকার মানিকনগর ও পরে মতিঝিল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। বিয়ে করেন নড়াইলে। তার স্ত্রীও ছিলেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আর সংসার করা হয়নি। ৩০ বছর ঢাকায় বসবাসের পর তিনি মহেশপুর চলে আসেন। গাফ্ফারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী (মায়ের তৃতীয় পক্ষ) ছিরবা আক্তার ঝর্ণার ভাষ্যমতে তার শাশুড়ি বদরুন্নেছা বেঁচে থাকাবস্থায় মাঝেমধ্যে আব্দুল গাফ্ফার বাড়িতে আসতেন।

২০০৬ সালে ২৭ মার্চ শাশুড়ি মারা গেলে আর আসেন না।

এখন মসজিদ ও পথে পথে ঘুরে বেড়ান। ঝর্ণা উল্লেখ করেন তার ভাসুরকে এভাবে জীর্ণ আর বিবর্ণ চেহারায় ঘুরতে দেখে তার ছেলে ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার কাজী আরাফাত হোসেন নিজ বাড়িতে ফেরানোর উদ্যোগ নেন।

কিন্তু তিনি আসেননি। ছিরবা আক্তার ঝর্ণা বলেন, পিতৃকুল ও মাতৃকুল মিলে আব্দুল গাফ্ফার ও তার তিন ভাই ৪২ বিঘা জমি পান। এর মধ্যে খামারাইল রামনগর গ্রামে ১২ বিঘা জমি এখনো আছে। আর জলিলপুরে ছিল ৩০ বিঘা। এসব জমি তার স্বামী কাজী আব্দুল বারী দেখাশোনা করতেন।

২০১৪ সাল থেকে তারা জমি বিক্রি শুরু করলে আব্দুল বারী জমি দেখাশোনা বন্ধ করে দেন।

 

আরও পড়ুন

এক বোতল ফেন্সিডিল সহ সাংবাদিক আটক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়! বিজিবিকে ধন্যবাদ!

নীলাকাশ বার্তাঃ ভীষণ উদ্বেগজনক ঘটনা। লালমনিরহাটে জাহাঙ্গীর আলম শাহীন নামেএকজন সাংবাদিককে এক বোতল ফেনসিডিলসহ আটক দেখিয়ে গরুর মতো রশিতে বাঁধা রাখার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই সাংবাদিককে ধরে তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি। পাশাপাশি দৈনিক জনকেণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষ খোচা দ্বিমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

এছাড়া তিনি জেলা ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরিবারের সদস্যের অভিযোগ, ১৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের রতনাই বেইলি ব্রিজ এলাকায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিজিবির টহল দলের তর্ক হয়। এ ঘটনায় এক বোতল ফেনসিডিল দিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

আরও পড়ুন

লক ডাউনে বাড়িভাড়া দিতে ব্যর্থ, বাড়ির মালিকের গলাধাক্কায় রাত কাটল ফুটপাতে

নীলাকাশ বার্তাঃ চট্টগ্রামের লালখান বাজার দুবাই কলোনিতে এক বাড়িতে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় শ্রীধাম দেবনাথ নামে এক ভাড়াটিয়াকে বৃহস্পতিবার সকালে বের করে দেয় বাড়ির মালিক। সারাদিন শতচেষ্টা করেও আর ঘরে উঠতে পারেননি তিনি ও তার পরিবার। রাতে নগরের ওয়াসার মোড়ে ফুটপাতে বৃদ্ধ মা, ভাইয়ের বউ ও তাদের ছোট্ট দুই সন্তানকে নিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে। শুক্রবার সকালের দিকে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে ঘরে তুলে দিয়ে আসেন।

শ্রীধাম দেবনাথ বলেছেন, কলোনির ওই ভাড়া বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে আমরা বসবাস করে আসছি। “আমার বড় ভাই চট্টগ্রাম ওয়াসায় চুক্তি ভিত্তিক চাকরি করতেন। করোনার সংক্রমণ শুরু হলে আমার ভাই কর্মহীন হয়ে পড়েন।” আমি টিউশনি করে সংসার চালাতাম।” সেটাও এখন বন্ধ। এর মধ্যে তিন মাসের ভাড়া ২১ হাজার টাকা বকেয়া পড়ে যায়।” সেটা পরিশোধ করতে পারিনি তাই মালিক ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আমার ভাই কাজের সন্ধানে বাইরে আছেন। এ অবস্থায় বৃদ্ধা মা, বৌদি ও দুই ভাই পোকে নিয়ে সারাদিন ওই বাড়ির সামনে অবস্থান করেও মালিককে বুঝাতে পারিনি”। “তাই সারারাত ওয়াসার মোড়ে একটি দোকানের সামনে বসেছিলাম”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *