রাত ১:৫৩ । ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ । ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ । ৯ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি


জরুরী নোটিশ/বিজ্ঞপ্তিঃ
* সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে ভিজিট করুন www.nilakashbarta.com – নীলাকাশ বার্তা ডট কম। ধন্যবাদ। জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোটাল www.nilakashbarta.com – নীলাকাশ বার্তা ডট কম পত্রিকায় জেলা/উপজেলা ভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে, আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন। অফিস : সুন্দরবন টাওয়ার (২য় তলা), নূরনগর বাজার, নূরনগর-৯৪৫১, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, ঢাকা, বাংলাদেশ। মোবাঃ +৮৮০১৮৮৫-১৭৫৬৮০, +৮৮০১৯৫৬-৬৯৫৯৮১, ই-মেইল : nilakashbarta@gmail.com, nuruzzamannews@gmail.com, ফেসবুক : www.facebook.com/nilakashbarta * To get the latest news, visit www.nilakashbarta.com first. Thanks. District/Upazila based representatives will be appointed in the popular online news portal www.nilakashbarta.com of Bangladesh on an urgent basis. Those interested should contact. Office: Sundarbans Tower (2nd Floor), Nurnagar Bazar, Nurnagar-9451, Shyamnagar, Satkhira, Dhaka, Bangladesh. Mob: +8801885-175680, + 801958-695971, E-mail: nilakashbarta@gmail.com, nuruzzamannews@gmail.com, Facebook: www.facebook.com/nilakashbarta
শিরোনাম

শ্যামনগরে বাঘ শিকারী বিখ্যাত বন্দুকটি কার?

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ “পচাব্দী গাজী বিখ্যাত বাঘ শিকারী। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী শিকারী পরিবারে ১৯২৪ সালে জন্ম।” “সবাই তাকে পচাব্দী গাজী নামে চেনে কিন্তু তার প্রকৃত নাম আব্দুল হামিদ গাজী।” স্ব-শিক্ষিত এই মানুষটি ছিলেন রোগা- পাতলা। পিতা মেহের গাজী, পিতামহ ইসমাইল গাজী ছিলেন খ্যাতনামা শিকারী।” তার পিতা মেহের গাজী ৫০টি বাঘ শিকার করার গৌরব অর্জন করেছিল।” ১৯৪১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে খুলনার পাইকগাছা থানার ‘গোলখালির সন্ত্রাস’ নামে পরিচিত একটি নরখাদক বাঘ হত্যা করার মাধ্যমে পচাব্দী গাজীর শিকারী জীবন শুরু হয়।

শিকারের জন্য উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি লাভ করেন পিতার ডাবল বেরেল মাজল -লোডিং বন্দুকটি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও বাংলার সে সময়ের গভর্নর মোনায়েম খা এবং জার্মান চ্যান্সেলরের সুন্দরবন পরিদর্শনে গাইড হিসেবে কাজ করেন এবং পুরস্কৃত হন।”

“এছাড়া তিনি নেপালের প্রয়াত রাজা মাহেন্দ্র ও তার ছেলে প্রয়াত বীরেন্দ্রকে নিয়ে শিকার অভিযানে যান। “তিনি জীবনে অনেক গুলো নামি দামি সার্টিফিকেট ওস্মারক লাভ করেন। “পশু শিকারে তাঁর বুদ্ধিমত্তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন বনকর্মকর্তার উদ্যোগে ১৯৫৫ সালে তিনি বনবিভাগের অধীনে বনপ্রহরীর কাজে যোগদান করেন”। এ কাজে যোগদানের পরপরই শুরু হয় দুর্ধর্ষ বাঘের সঙ্গে তাঁর বিচিত্র লড়াইয়ের লোমহর্ষক জীবনের এক নতুন অধ্যায়। তিনি সরকারের বনবিভাগের বৈধ শিকারীর সার্টিফিকেট নিয়ে সুন্দরবনের বাওয়ালি , মাওয়ালি, মাঝি ও জেলেদের জীবনরক্ষায় অবতীর্ণ হন মুক্তিদাতার ভূমিকায় এবং রক্ষা করেন অজস্র শ্রমিকের প্রাণ।” তাঁর এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালে তাঁকে ‘সনদ-ই-খেদমত’ জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করে”। পচাব্দী গাজীর বাঘ শিকার করার কৌশল ছিল অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র।

“বাঘকে বশীভূত করার উদ্দেশ্যে তিনি অলৌকিক পদ্ধতির পরিবর্তে আত্মোদ্ভাবিত বিভিন্ন কৌশল,গভীর ধীশক্তি ও প্রযুক্তির আশ্রয় নিতেন। ‘তিনি পাগমার্ক দেখে বাঘের আকৃতি অনুধাবন করতে পারতেন। তাছাড়া পদচ্ছাপ দেখে পশুর শ্রেণি এবং তার গতিবিধি নির্ণয়েও তিনি দক্ষ ছিলেন। বাঘের গতিবিধি চিহ্নিতকরণে তিনি কখনও দিন-রাত পর্যবেক্ষণে থাকতেন।

তিনি নিরস্ত্র অবস্থায়ও হিংস্র প্রাণীদের সঙ্গে লড়েছেন। বাঘিনীর ডাক, গাছ কাটার শব্দ কিংবা পাতা সংগ্রহের শব্দ নকল করে তিনি বাঘকে প্রলুব্ধ করতেন। জঙ্গলে কল পেতে কিংবা ১৫ হাত উঁচু মাচান তৈরি করেও তিনি শিকার করতেন। শরৎ, হেমন্ত ও বসন্তের পূর্ণিমা-অমাবস্যা হচ্ছে বাঘের প্রজনন সময়।”

স্থানীয় ভাষায় একে বলে‘স্যাঁড়াসাঁড়ির কোটাল’। এ সময় পচাব্দী গাজী বাঘিনীর ডাক নকল করে পাগলপ্রায় মিলনোন্মত্ত বাঘকে হত্যা করতেন”। পচাব্দী গাজীর বাঘ শিকারের আরো দুটি পদ্ধতি হলো ‘গাছাল’ ও ‘মাঠাল’। গাছাল হলো গাছে চড়ে শিকার, আর মাঠাল হলো জঙ্গলের ভিতর চলতে চলতে শিকার। মাঠাল পদ্ধতিতে শিকার করে তিনি একটি দো-নলা বন্দুক পুরস্কার পান। “সাতক্ষীরার বুড়ি গোয়ালিনী ফরেস্ট রেঞ্জে ‘আঠারোবেকি’ এলাকায় ‘টোপ’ পদ্ধতিতে তিনি যে বাঘটি হত্যা করেন সেটি ছিল সুন্দরবনের শিকারের ইতিহাসে দীর্ঘতম বাঘ প্রায় ১২ ফুট দীর্ঘ।” এরপর ‘তালপট্টির সন্ত্রাস’ নামে খ্যাত বাঘ শিকার ছিল পচাব্দী গাজীর জীবনের ৫৭তম ও শেষ শিকার।৫৭টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার শিকার করে তিনি সুন্দরবনের ইতিহাস হয়েছেন এবং শ্রেষ্ঠ শিকারির খেতাব নিয়ে ১৯৯৭ সালে মারা যান।”

উল্লেখ্য “এশিয়ার বিখ্যাত বাঘ শিকারী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার সোরা গ্রামের পচাব্দী গাজীর ঐতিহাসিক রয়েল বেঙ্গল টাইগার শিকারের আলোচিত সেই বন্দুকটিকে স্বচক্ষে দেখতে সুন্দরবন অঞ্চল শ্যামনগর উপজেলায় হেলিকপ্টারে উড়ে আসলেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম।” এরপর থেকে আবারও আলোচনায় আসে।

“৩ মার্চ বুধবার সকাল দশ টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে শ্যামনগরে আসেন বিজিবি মহাপরিচালক। “হেলিকপ্টার থেকে নেমে সরাসরি শ্যামনগর থানায় চলে যান এ সময় তাকে অভিনন্দন জানান সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম ও নীলডুমুর ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াসিন চৌধুরী।”

“এর পরে তিনি শ্যামনগর থানায় রক্ষিত ঐতিহাসিক সেই বন্দুকটি দেখেন।” বিখ্যাত বাঘ শিকারী পচাব্দী গাজী এই বন্দুক দিয়ে ৪২ টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার হত্যা করেছিলেন”।

“মানুষ খেকো এইসব বাঘগুলোকে হত্যা করার জন্য পচাব্দী গাজী বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। “তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার পচাব্দী গাজীকে বেঙ্গল টাইগার নামে অভিহিত করেছিলেন। পচাব্দী গাজীর মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত বন্দুকটি উত্তরাধিকার সূত্রে তার পুত্র আবুল হোসেন পাওয়ার পরে বন্দুকটি রিনিউ না করার কারণে শ্যামনগর থানার অস্ত্রাগারে দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে পড়ে আছে। “ঐতিহাসিক এই বন্দুকটি এক নজর চোখে দেখার জন্য বিজিবি মহাপরিচালকের এই সফর”। এ সময় তিনি বিজিবির অফিসার ও সৈনিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সীমান্ত রক্ষায় তাদেরকে আরো তৎপর হতে হবে। মাদক, নারী পাচার ও চোরাচালানের ব্যাপারে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *